সাদা-কালো পোশাকের স্টাইলিংয়ের টিপস নিন পায়েলের কাছ থেকে

পায়েল সরকার


গরমের দিনে মোনোক্রোমের কোনও বিকল্প নেই। চোখ-মন দু’ই শান্ত রাখে আলো-ছায়ার খেলা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সাদা আর কালো দু’টিই খুব বেসিক রং এবং যথাযথ স্টাইলিং না হলে লুকটা খুব ম্যাড়মেড়ে স্কুল ইউনিফর্ম গোছের হয়ে যাওয়ার একটা আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই মোনোক্রোম পোশাক বাছাইয়ের সময় এমন প্রিন্ট বা প্যাটার্ন বাছুন যা ইন্টারেস্টিং, সেই সঙ্গে নজর দিন নিজের মেকআপ আর হেয়ারস্টাইলের দিকেও। তা হলে আপনিও ঝলমলিয়ে উঠবেন পায়েল সরকারের মতো।

উজ্জ্বল কোনও শেডের লিপস্টিক রাখুন হাতের কাছে: পায়েল সাদার উপর ছোট ছোট কালো প্রিন্টের ফুল স্লিভ শার্টের সঙ্গে পরেছেন কালো জিনস। কিন্তু পুরো সাজের মূল হাইলাইট হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর চেরি লাল লিপস্টিক। যাঁদের গায়ের রং পাকা গমের মতো, তাঁদের কমপ্লেকশনে দারুণ মানায় মিষ্টি গোলাপি ঘেঁষা এই শেড। সঙ্গে পরুন হালফ্যাশনের সানগ্লাস। লিপস্টিকের সঙ্গে ম্যাচ করে ব্যাগ আর জুতো নিতে পারলে তো সোনায় সোহাগা!

পায়েল সরকার


প্যাটার্ন নিয়ে খেলা: সাদা কালো স্ট্রাইপস নিয়ে নানা এক্সপেরিমেন্ট করা যায়। তবে মনে রাখবেন, যাঁদের চেহারা অতিরিক্ত ভারী, তাঁরা যদি হরাইজ়ন্টাল স্ট্রাইপস পরেন, তা হলে বেশি মোটা লাগে। যাঁদের উচ্চতা কম, তাঁরা লম্বা স্ট্রাইপ পরলে উচ্চতা আরও কম লাগবে। তা হলে কি পারফেক্ট ফিগার না হলে স্ট্রাইপস পরার দরকার নেই? মোটেই না! সে ক্ষেত্রে এমন স্ট্রাইপ বাছতে হবে যা আপনার ব্যক্তিত্বের চেয়ে কম উজ্জ্বল। খুব চওড়া স্ট্রাইপ কিনবেন না, বেছে নিন পাতলা স্ট্রাইপস। পায়েলের স্ট্রাইপড টপের কোমরের কাছের নট আর সাদার উপর পাতলা ফ্লুরোসেন্ট গ্রিন প্যাটার্ন থাকায় তৈরি হয়েছে অপটিক্যাল ইলিউশন, লুকটা মোটেই একমাত্রিক থাকবে না। স্ট্রাইপ নজরকাড়া হলে পোশাকের কাট নিয়ে নানা এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন।

বজায় রাখুন রঙের ভারসাম্য: সাদা আর কালো দুটো সলিড রং এমনভাবে ব্যবহার করুন যেন ব্যালান্সটা বজায় থাকে। পায়েল চমৎকারভাবে তাঁর পোশাক ও অ্যাকসেসরিজ়ের ক্ষেত্রে সেই মাত্রাটা বজায় রেখেছেন। তাঁর কালো পোশাক ও জুতোকে আকর্ষক করে তুলেছে সাদা অ্যাকসেন্টের ব্যবহার।

নাকের গয়না সম্পর্কে আপনার জ্ঞান কতটুকু?

নাকের গয়না সম্পর্কে নানা তথ্য


নাকের নানা ধরনের গয়না হয়, আর তার সবগুলোকেই কিন্তু নাকছাবি বলে না! বহু পুরোনো নকশার নাকের গয়নাও ইদানীং জনপ্রিয় হয়েছে, প্রাদেশিক অলঙ্কারও পরেন অনেকেই। যাঁরা দুর্দান্তভাবে নাকের গয়না ক্যারি করেন, তাঁদের মধ্যে আমাদের প্রিয় নায়িকা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের নাম অবশ্যই সবার আগে আসবে। একেবারে মহাকাব্যের নায়িকাদের নাকের বর্ণনায় যেমনটি দেওয়া থাকত, স্বস্তিকার নাকের গড়ন ঠিক তেমন। বাঁশির মতো সরু, কিন্তু পাটাটি প্রশস্ত, ফলে নানা ডিজ়াইনের অলঙ্কারে তাঁকে মানায় ভালো। তবে প্রাচীন ভারতে নাকের গয়না তেমন চালু ছিল না, খুব পুরোনো বইপত্রে তার উল্লেখ পাওয়া যায় না। মোটামুটি মধ্যযুগ থেকে অবশ্য নথ, মাকড়ি, বোন্দা, বেসর, নোলক ইত্যাদি নানা প্রকারের ব্যবহার চালু হয়। মেয়েদের বামদিকের নাকে অলঙ্কার পরাটাই দস্তুর। আগেকার দিনে সাধারণত বিশেষ বিশেষ কারণেই কেবল শিশুর ডান নাকে ফুটো করা হত, ইদানীং অবশ্য সে সব বিধিনিষেধ উঠে গিয়েছে।

নাকছাবি বা নাকফুল: পরা সবচেয়ে সহজ, নানা আকারের হয়। একটা সরু ডাঁটি বা বাঁকানোর প্যাঁচের আগায় থাকে ছোট্ট পাথর বা সামান্য নকশা বসানোর জায়গা। সোনা বা রুপোর হতে পারে, দামী হিরে, চুনি, পান্না বা মুক্তো বসানো হয়। আজকাল আদিবাসী নকশার অনুপ্রেরণায় বড়ো বড়ো রুপোর নাকছাবিও তৈরি হচ্ছে, এমন গয়নাকে আগেকার দিনে বলা হত নাকপাশা। ছবিতে বিদ্যা বালন নাকে যে গয়নাটি পরেছেন, সেটিকে নাকপাশা বলা যায়।

নথ: বিয়ের দিনে নথ পরার দস্তুর চালু আছে আজও। নথ সাধারণত বেশ বড়ো আকারের হয়, নাকের ছিদ্র দিয়ে ঢুকিয়ে বঁড়শির মতো আঁকড়ায় আটকে দেওয়া হয়। বড়ো ফাঁদের নথে পলা, মুক্তো, হিরে লাগানোর চল আছে, অনেক সময় ভার সামলানোর জন্য নথের সঙ্গে সরু চেন লাগানো হয় এবং তা আটকে দেওয়া হয় চুলের খোঁপায়। ঝুমকো দোলানো নথকে বলা হয় ঢেঁড়ি নথ। পশ্চিম ভারতের বিবাহিতা মেয়েরা খুব ভারী নথ পরতে অভ্যস্ত, আজকাল অবশ্য তা কেবল উৎসবের দিনেই পরা হয়।

বেসর ও নোলক: এইদু’টিই পরা হয় নাকের ডাঁটিতে। বেসরে কারুকাজের পরিমাণ চোখ টানে। নোলক সাধারণত ছোট মেয়ে বা কম বয়সের বউয়েরা পরে। নোলকের ঠিক মাঝে ছোট কুন্দফুল বা একটি ঝালর লাগানো হয় সাধারণত।

মাকড়ি: মাকড়ি নথের ছোট সংস্করণ, তবে মাকড়িতে নানা ধরনের কারুকাজ থাকতে পারে। মরাঠি মহিলারা যে নথনি পরেন, তা-ও এক প্রকার কারুকাজ করা মাকড়িই বটে। উপরের ছবিতে স্বস্তিকার নাকের গয়নাটি এই গোত্রে পড়বে।

কী, এত রকম গয়না থাকলেও আপনার নাকে ফুটো নেই বলে মন খারাপ করছেন নাকি? চিন্তা করবেন না, ইদানীং নানা নকশার চমৎকার সব টেপা নাকছাবি পাওয়া যায়, স্বচ্ছন্দে তেমন কিছু একটা কিনে পরতে পারেন!

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *