এই মৌসুমে মেয়েদের জন্য বাংলাদেশের সেরা ট্রেন্ডী পোশাক

মেয়েরা পোশাক পরতে আর সাজগোজ করতে কতই না ভালোবাসে। আপনি যেই স্টাইলই অনুসরণ করুন কিংবা তৈরি করুন না কেন, সেটা অবশ্যই সর্বশেষ ট্রেন্ডের সাথে মানানসই হওয়া চাই সব সময়। বাংলাদেশের যেকোন মেয়ের মত আপনিও যদি সাজগোজ ও পোশাক পরতে ভালোবাসেন এবং কিছুটা হলেও ফ্যাশন সচেতন হন, তাহলে আজকের প্রতিবেদনটি আপনার জন্যই। কেননা আজ আমরা এই মৌসুমে মেয়েদের পোশাকের ফ্যাশন এবং দারুণ সব সেরা ট্রেন্ডগুলো নিয়ে আলোচনা করবো। এছাড়াও আমরা শীতের বিভিন্ন পোশাকের ট্রেন্ড নিয়েও কথা বলবো যেগুলো ২০১৯ এর সেরা শীতের পোশাক হয়ে উঠবে!

অতএব, আর দেরি না করে চলুন দেখে নিই এই মৌসুমে বাংলাদেশী মেয়েদের মধ্যে এখনকার সবচেয়ে সেরা ফ্যাশন ট্রেন্ডগুলো কেমন ও কী কী –

সালোয়ার স্যুট

বাংলাদেশের তরুন মেয়েদের মাঝে ডিজাইনার সালোয়ার স্যুটের জনপ্রিয়তা ক্রমশই বেড়েই চলেছে। এই ডিজাইনার সালোয়ার স্যুট বেশির ভাগ আমদানী করা হচ্ছে পাকিস্তান থেকে। এই ধরনের ড্রেসে আমাদের সংস্কৃতি ও মার্জিত রুচির প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে বলে এই ড্রেস গুলো অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং সবার কাছে অধীক গ্রহন যোগ্য হয়ে উঠেছে। রক্ষনশীল এবং ধার্মীক লোকজনের থেকে শুরু করে ফ্যাশান সচেতন যে কোন বাঙালী মানুষ, প্রচলীত সাংস্কৃতিক এবং ট্রান্ডী সালোয়ার স্যুটের কমনীয়তা এবং সৌন্দর্যের কথা সবাই স্বীকার করতে বাধ্য।

এই ড্রেস গুলো অনেক বেশি আরামদায়ক, সব বয়সের ও মনোভাবের নারীদের জন্যে বিশেষ ভাবে কাস্টমাইজ করা সুবিধা এবং স্টাইলিশ অনুষঙ্গ ব্যবহারের সহজ স্বাধীনতা রয়েছে। পাকিস্তানী ডিজাইনাররা অনেক নরম ও হালকা কাপড় ব্যবহার করে এই পোশাক গুলো তৈরী করে থাকে, এই জন্যেই এই পোশাক গুলো যেমন আরামদায়ক হয়ে থাকে, তেমনি এইগুলো পছন্দমত বিভিন্ন স্টাইলিশ ডিজাইনে সেলাই করে নিয়া যায়। আজকের দিনে মেয়েরা উৎসব পার্বণে তাদের আরামের কথা মাথায় রেখে পোশাক পরতে পছন্দ করে এবং ট্রেন্ডী ডিজাইনের সালোয়ার স্যুট যেকোন উৎসব অনুষ্টান মাতিয়ে তুলে এর শোভা বাড়িয়ে দিতে পারে বহুগুনে, কখনো কখনো শাড়ীর চেয়েও বেশি

শাড়ি

শাড়ি

ফ্রিঞ্জ, ফ্রিলস, পালক এবং হ্যাঁ রাফলও! শাড়ি এখন কেবল মাত্র সাংস্কৃতিক লুক তৈরি করার অনন্য এক মাধ্যম নয়! এখন আপনি চাইলে প্রায় যেকোন উৎসব অনুষ্ঠানে শাড়ি পরতে পারবেন। কেননা আজকের দিনে শাড়িগুলোকে অনেক রকম ভাবে কাস্টমাইজ করা সম্ভব এবং ফ্যাশনে আরো কিছুটা মাত্রা যোগ করার জন্য শাড়িগুলোতে নাজুক ডিটেইল যোগ করা হয় এবং আরো কিছুটা গ্ল্যামার তাতে নিয়ে আসা হয়। 

এছাড়াও বিগত কয়েক বছরে এদেশে শাড়ির জমিন হিসেবে পছন্দের কাপড় বা উপাদানের ব্যাপারেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন মেয়েরা হালকা পাতলা ও কম ওজনের কাপড়ের দিকে অধিক পরিমাণে আকৃষ্ট হচ্ছে, এই কাপড়গুলো বহন করা যেমন সহজ, তেমনি দেখতেও বেশ ফ্যাশনেবল। সিল্ক,হাফ সিল্ক, অরগ্যাঞ্জা, মসলিন, উচ্চ মানের জর্জেট, স্যাটিন ইত্যাদি কাপড় বর্তমানে বাংলাদেশের মেয়েদের বিশেষ পছন্দ। একটি সুন্দর কারুকাজ করা ব্লাউজ পিসের সাথে মিলিয়ে পড়া হলে এই একেকটি শাড়ি যেকোন উৎসবে বা পার্টিতে যেকোন পোশাককে হার মানাতে বাধ্য। আর আপনি যদি এই চিন্তায় অস্থির হয়ে থাকেন যে আপনার নতুন ডিজাইনার ব্র্যান্ডের শাড়ির সাথে কি রকম গহনা বা জুয়েলারি মিলিয়ে পরবেন, তাহলে আমাদের আগের প্রতিবেদনটি এক নজর দেখে নিতে পারেন, যেখানে আমরা বাংলাদেশে মেয়েদের জন্য মৌসুমের সেরা ৫ হাল ফ্যাশনের জুয়েলারি নিয়ে আলোচনা করেছি।

কেইপ ও শ্রাগ

কেইপ ও শ্রাগ

আপনি যদি ধার্মিক মনোভাবের হয়ে থাকেন এবং আরো উত্তম রূপে পর্দা করতে চান, কিংবা যদি আপনি আপনার আরামদায়ক পোশাকের সাথে বাড়তি একটি অংশ যোগ করে এর শোভা আরো বাড়াতে চান, তাহলে জেনে রাখুন বিগত কয়েক বছর ধরে কেইপ ও শ্রাগ বাংলাদেশে ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক বেশি হালকা পাতলা এবং ফুরফুরে কেইপ ধাঁচের এই সুন্দর কাপড়গুলো বিভিন্ন ধরণের মেয়েদের পোশাকের এক্সেসরিস হিসেবে পরিধান করা যায়, যেমন- জিন্স, লেহেঙ্গা, কুর্তি, বোরখা, আবায়া ইত্যাদি।

বিভিন্ন ধরণের পোশাকের সাথে পরতে পারা এবং শরীরের তাপ খুব বেশি আটকে না ফেলার জন্য এই সব  কেইপ ও শ্রাগের কাপড় হতে হবে অনেক বেশি হালকা এবং ফুরফুরে। হালকা ওজনের জর্জেট, শিফন, নেট, জার্সি, সিল্ক, ভেলভেট ইত্যাদি কাপড় এখন শ্রাগ বা কেইপের কাপড় হিসেবে আজকাল সর্বাধিক জনপ্রিয়। এই গুলো এত বিভিন্ন রকম ডিজাইনে তৈরি করা হয় যে আপনি চাইলে এগুলো ব্যবহার করে আপনার স্টাইলিশ গাউন বা ড্রেসের শোভা বাড়াতে পারেন, কিংবা আপনার সম্পূর্ণ ত্বক দেখিয়ে আপনার বিনয় ও মাধুর্য রক্ষা করার জন্য ড্রেসের সাথে  কেইপ বা শ্রাগ পরতে পারেন। এছাড়াও আপনি এগুলো অন্য পোশাক কিংবা বোরখার ওপর পড়ে নিজেকে ভালোভাবে ঢেকে নিতে পারেন, একই সাথে বজায় থাকলো আপনার আরাম ও স্টাইলও। যা কিছুই আপনার পরতে ইচ্ছা করুক না কেন, শুধু আপনার পোশাকের সাথে মিলিয়ে সঠিক ধরণের কেইপ অথবা শ্রাগ বেছে নিন আর বাড়তি কমনীয়তার সাথে আপনার স্টাইলকে তুলে ধরুন সবার সামনে।

ডেনিমের তৈরি পোশাক

ডেনিমের তৈরি পোশাক

এখন যেহেতু শীতকাল দোরগোড়ায় চলেই এসেছে, তাই বাংলাদেশি মেয়েদের মধ্যে ডেনিমের তৈরি পোশাকের জনপ্রিয়তা দিন কে দিন বেড়েই চলেছে। যদিও বিশ্বব্যাপী বাজারের অন্যতম জনপ্রিয় পোশাক হচ্ছে ডেনিমের জিন্স, তবুও এগুলোই ডেনিমের তৈরি পোশাকের একমাত্র অপশন নয়! বিভিন্ন ডিজাইনাররা বিশেষ ভাবে সেলাই করা ডেনিম ফ্যাব্রিকের স্কার্ট, শার্ট, ওভারঅল, ফ্যাশনেবল ব্যাগ, চোকার, চুলের ব্যান্ড,হ্যাট, বুটস এবং অন্যান্য বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে থাকেন।

অরিজিনাল ডেনিম ফ্যাব্রিকের তৈরি পোশাক আমাদের দেশে শীতের পোশাক হিসেবেই সবচেয়ে ভালো। আরো বিভিন্ন ধরণের ডেনিম পোশাক বাজারে রয়েছে যেগুলো অন্যান্য যেকোন মৌসুমে পড়ার জন্যও উপযোগী। ডেনিম পোশাককে অন্যান্য বিভিন্ন ধরণের ড্রেসের সাথে মিলিয়ে পড়া যায়, দেশী হোক কিংবা ওয়েস্টার্ন। সর্বোপরি এটি হলো এমন একটি ট্রেন্ড যা সময়ের সাথে কিছুটা পরিবর্তন হয়, কিন্তু ডেনিম পোশাকের জনপ্রিয়তা প্রকৃতপক্ষেই কালজয়ী!

সিগারেট প্যান্ট

সিগারেট প্যান্ট

খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে সিগারেট প্যান্ট আমাদের আলমারিতে আবারো যায়গা করে নিয়েছে। চওড়া, মার্জিত এবং ডীজাইনার পালাজ্জো আমাদের বাংলাদেশী নারীদের হৃদয়ে এখনও যায়গা করে রয়েছে, কেননা পালাজ্জোগুলো সার্বজনীনতা এবং যেকোন ধরণের টপস, ড্রেস, শার্ট ইত্যাদির সাথে মিলিয়ে পরার স্বাধীনতা রয়েছে, পোশাকের দৈর্ঘ্য যেমনই হোক না কেন! সিগারেট প্যান্ট সাধারণত মাঝারি থেকে লম্বা দৈর্ঘ্যের কুর্তা, টপস এবং কিছু ধরণের লুজ-ফিটিং শার্টের সাথেও বেশ মানিয়ে যায়।  

এই প্যান্টগুলো মার্কেটপ্লেসে থাকা যেকোন ধরণের ফ্যাব্রিক উপাদান দিয়ে তৈরি করা যায়। কিন্তু সবচেয়ে জনপ্রিয় ভ্যারাইটির সিগারেট প্যান্টগুলোর পায়ের নিচে গোড়ালির দিকে শিফনের কাজ, লেস এবং এম্ব্রয়ডারীর কাজ করা থাকে।

এই মৌসুমে মেয়েদের জন্য সেরা শীতের পোশাক

শীতের পোশাক

বাংলাদেশে শীতকাল সব সময়ই স্টাইল এবং ফ্যাশনের অন্যতম ঋতু হিসেবে খ্যাত ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের মেয়েদের জন্য এটি হলো এমন একটি ঋতু যে সময়ে আমরা খেয়ালে বশে আমাদের পোশাকের ক্ষেত্রে থাকা সাংস্কৃতিক দেয়াল থেকে কিছুটা বেরিয়ে আসতে পারি, আমাদের মার্জিত স্বভাব ও রুচির সাথে কোন রকম সমঝোতা না করেই। এই মৌসুমে মেয়েদের শীতের পোশাকের মধ্যে বেশির ভাগই থাকবে বড়, আরামদায়ক এবং উষ্ণ ব্লেজার, জ্যাকেট, লম্বা উলের কার্ডিগান, বিভিন্ন ধরণের পনচো, ভারী শ্রাগ, কেইপ ইত্যাদি। আর হ্যাঁ, আপনি প্রচলিত অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পোশাকও পরতে পারবেন, সাথে মিলিয়ে রঙিন শাল, যেমন- কাশ্মিরী, একরঙা উলের চাদর, খাদি, পাশমিনা শাল ইত্যাদি পরতে পারবেন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *